চলে গেলেন চিত্রনায়ক ওয়াসীম প্রয়াত 'রাজপুত্র' ওয়াসিম, অভিনয় করেছেন দেড় শতাধিক বাংলা ছবিতে. ১ মিনিটে
‘চুমকি চলেছে একা পথে’ র সাইকেল চালিয়ে যাওয়া চঞ্চল প্রেমিক কিংবা ‘আমি তোমারি প্রেম ভিখারি’র সেই বিরহে রাজকুমার প্রেমিক থেকে ‘এই বৃষ্টি ভেজা রাতে’র সেই রাগী জমিদার বা এই মন তোমাকে দিলাম গানের চিরপ্রেমিকের কথা উঠলেই যার কথা ভেসে উঠে তিনি নায়ক ওয়াসিম।
সুঠাম দেহের জন্য মিস্টার ইস্ট পাকিস্তান হয়েছিলেন,চলচ্চিত্রে আসেন স্বাধীনতার পর। প্রথম ছবি রাতের পর দিন৷ ফোক ফ্যান্টাসি বা একশন নির্ভর ছবির জন্য তিনি তখনকার সময় সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য নায়ক। বলা হয় তখন তিনিই সবচেয়ে বেশি হিট ছবির নায়ক হয়েছেন। ডাকু মনসুর,বাহাদুর,রাজমহল থেকে দুই,রাজকুমার,সওদাগর বে- দ্বীন,বারুদ,আসামী হাজির,সহ আরো অনেক ছবি। শোলের নকল দোস্ত দুশমনে ধর্মেন্দ্র র করা চরিত্রটি করেছিলেন। ওয়াসিমের গান ভাগ্য ও খুব ভালো ছিল,প্রায় প্রতিটা ছবিতেই ছিল হিট গান। প্রাণ স্বজনীর প্রতিটা গান ই ছিল শ্রোতাদের মুখে। চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা,মানসী,নরম গরম সব ছবির ই গান। লাল মেমসাহেব ছবিতে ‘ওগো বিদেশিনী তোমার চেরি ফুল দাও’ গানটা বেশ পছন্দের। শাবানার সেরা জুটির তালিকায় আলমগীর,রাজ্জাকদের হলেও সত্তর দশকে ওয়াসিমের সঙ্গেই ছিল তার জনপ্রিয় জুটি। অলিভিয়া,রোজিনা,অঞ্জুদের সফল নায়ক তিনি। দি রেইন ছবিটা ক্ল্যাসিক হয়ে আছে,সেরা সিনেমা সম্ভবত ‘বিনি সুতোর মালা’,ছলনা ছবিটাও ছিল ভালো লাগবার মত। ‘ঈমান’ সিনেমার জন্য জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছেন এমন শোনা গেলেও পরে আর পান নি,এইজন্য তিনি আফসোস করে গেছেন৷
এত এত হিট ছবির নায়ক,সুঠাম দেহের অভিনেতা। তবুও কোথাও যেন অপূর্ণ ছিল,তার অনেক ছবিতে নায়িকাদের কারনে বেশি আলোচিত৷ তবুও তখনকার দর্শকদের কাছে তিনি ছিলেন প্রিয়দের একজন।  ওয়াসিম অভিনীত অনেক গান আমার প্রিয়,কিছু ছবিও দেখা হয়েছে। বেশ কয়েকদিন অসুস্থ থাকার পর আজ তিনি চলে গেলেন।
‘ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে’, প্রাণ স্বজনী সিনেমার সেই গানের মত তিনিও আজ ৭৪ বছর বয়সে সব হিসাব নিকাশের উর্দ্ধে চলে গেলেন।
ওপারে ভালো থাকবেন…… ওয়াসিম।
ছবিতে ফটোগ্রাফারের বোনদের সঙ্গে ১৯৯৩ সালে চিত্রনায়ক ওয়াসিম।

সত্তর ও আশির দশকের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ও প্রযোজক মেজবাহ উদ্দীন আহমেদ ওয়াসীম মারা গেছেন।
রাজধানীর শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তার মৃত্যু হয় বলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান জানান।

জায়েদ খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ৭৪ বছর বয়সী ওয়াসীম দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুস, হৃদযন্ত্র ও কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন।

শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে শনিবার রাতে তাকে শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসরারা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ অভিনেতা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না বলে জানান জায়েদ খান।

সত্তর ও আশির দশকজুড়ে ফোক ফ্যান্টাসি ও অ্যাকশন চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নিয়েছিলেন ওয়াসীম; সেই সময়ে শীর্ষ নায়কের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি। তার অভিনীত দেড় শতাধিক চলচ্চিত্রের মধ্যে বেশিরভাগই সুপারহিট ছবি।

১৯৭২ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরুর পর ১৯৭৪ সালে মহসিনের পরিচালনায় ‘রাতের পর দিন’ সিনেমার মাধ্যমে নায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটে ওয়াসীমের। প্রথম ছবিতেই দর্শকদের নজর কেড়ে কয়েক বছরের ব্যবধানেই ঢালিউডে নিজেকে শীর্ষস্থানে নিয়েছেন তিনি।

এস এম শফীর পরিচালনায় ‘দ্য রেইন’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শদের পাশাপাশি বোদ্ধামহলেও প্রশংসিত হয়েছিলেন ওয়াসীম। ছবিটি বিশ্বের ৪৭টি দেশে মুক্তি পেয়েছিল।

‘দ্য রেইন’ ছাড়াও দুই দশকের ক্যারিয়ারে ‘ডাকু মনসুর’, ‘জিঘাংসা’, ‘কে আসল কে নকল’, ‘বাহাদুর’, ‘দোস্ত দুশমন’, ‘মানসী’, ‘দুই রাজকুমার’, ‘সওদাগর’, ‘নরম গরম’, ‘আসামি হাজির’, ‘রাজ দুলারী’, ‘লুটেরা’, ‘লাল মেম সাহেব’, ‘জীবন সাথী’, ‘রাজমহল’, ‘বিনি সুতার মালা’, ‘বানজারান’র মতো হিট চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন ওয়াসীম।

নায়িকাদের মধ্যে অলিভিয়া, রোজিনা, অঞ্জু ঘোষ, কবরী, শাবানার সঙ্গে সর্বাধিক চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন তিনি।

অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র প্রযোজনাও করেছেন ওয়াসীম। নিজস্ব প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ডব্লিউ আর প্রোডাকশনে ব্যানারে নির্মাণ করেছেন ‘হিসাব চাই’, ‘মোহন বাঁশি’, ‘নয়া তুফানসহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র।

১৯৬৪ সালে বডি বিল্ডিংয়ের জন্য ‘মিস্টার ইস্ট পাকিস্তান’ খেতাব অর্জন করেছিলেন ওয়াসিম।

ব্যক্তিগত জীবনে অভিনেত্রী রোজী আফসারীর ভগ্নিপতি ও পরিচালক মালেক আফসারীর ভায়রা ওয়াসিম দুই সন্তানের জনক। তার স্ত্রী ২০০০ সালে মারা গেছেন। মেয়ে বুশরা আহমেদ ২০০৬ সালে আত্মহত্যা করেছেন। একমাত্র ছেলে দেওয়ান ফারদিন আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন।

১৯৪৭ সালের ২৩ মার্চ চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন ওয়াসীম।

জায়েদ খান জানান, রোববার জোহরের পর গুলশানের আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে ওয়াসীমকে সমাহিত করা হবে।

বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা ওয়াসিম৷

চিকিৎসাধীন ছিলেন রাজধানীর শাহাবুদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন।

শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ওয়াসিমের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান।

সবার প্রিয় অভিনেত্রী কবরীর মৃত্যুর শোকের ছায়ায় মুহ্যমান গোটা চলচ্চিত্রাঙ্গন৷ একদিন পরেই চিত্রনায়ক ওয়াসিমের মৃত্যু সেই শোকের আবহকে আরো ভারী করে তুলল। শোবিজ অঙ্গনের অনেকেই বাকরুদ্ধ হয়ে গেছেন।

সত্তরের দশক থেকে ঢাকাই সিনেমায় একচেটিয়া আধিপত্য ছিল ওয়াসিমের।

১৯৭৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত চলচ্চিত্রে শীর্ষ নায়কদের একজন ছিলেন ওয়াসিম।

বিশেষ করে ফোক ফ্যান্টাসি আর অ্যাকশন ঘরনার ছবির নায়ক হিসেবে ছিলেন তুমুল জনপ্রিয় ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী।

এক সময়ের দর্শকপ্রিয় এই অভিনেতার রুপালী পর্দায় যাত্রাটা অবশ্য নায়ক হিসেবে হয়নি।

১৯৭২ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার।

এর দুই বছর পর নায়ক হিসেবে অভিষেক ঘটে।

১৯৭৪ সালে মহসিন পরিচালিত ‘রাতের পর দিন’ সিনেমার মাধ্যমে নায়ক রূপে আবির্ভাব ঘটে ওয়াসিমের। এক ছবিতেই বাজিমাত। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।

একের পর এক হিট ছবি উপহার দিতে থাকেন।

তবে ১৯৭৬ সালে তার অভিনীত এস এম শফী পরিচালিত ‘দি রেইন’ সিনেমা তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

সবমিলিয়ে ১৫২টির মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন ওয়াসিম।

এদের মধ্যে সুপারহিট ছবিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো – দ্য রেইন, ডাকু মনসুর, জিঘাংসা, কে আসল কে নকল, বাহাদুর, দোস্ত দুশমন, মানসী, দুই রাজকুমার, সওদাগর, নরম গরম, ইমান, রাতের পর দিন, আসামি হাজির, মিস লোলিতা, রাজ দুলারী, চন্দন দ্বীপের রাজকন্যা, লুটেরা, লাল মেম সাহেব, বেদ্বীন, জীবন সাথী, রাজনন্দিনী, রাজমহল, বিনি সুতার মালা, বানজারান।

এসব ছবিতে ওয়াসিমের বিপরীতে ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের অনেক জনপ্রিয় নায়িকা।

তাদের মধ্যে অলিভিয়া, রোজিনা, অঞ্জু ঘোষ, কবরী, শাবানার সঙ্গে বেশি সংখ্যক সিনেমায় অভিনয় করেছেন।

অলভিয়ার বিপরীতে ওয়াসিম অভিনীত ‘লাল মেম সাহেব’ ছবিটি আজও সিনেপ্রেমীদের হৃদয়ে দোলা দেয়।

কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার অভিনীত ‘রাজ দুলালী’ ছবিতে ওয়াসিমের অভিনয় দর্শকনন্দিত হয়।

এছাড়া অঞ্জু ঘোষের সঙ্গে জুটি বেধে করা ওয়াসিমের ছবি ‘সওদাগর’, ‘নরম গরম’, ‘রসের বাইদানী’ ব্যাপক ব্যবসাসফল হয়।

সবমিলিয়ে ১৫২টি ছবিতে অভিনয় করেছেন ওয়াসিম।

সত্তর ও আশির দশকে রাজা, রাজপুত্র বলতে চলচ্চিত্রপ্রেমীরা ওয়াসিমকেই কল্পনা করতেন।

কালজয়ী এই অভিনেতা ১৯৫০ সালের ২৩ মার্চ চাঁদপুরের মতলবে জন্মগ্রহণ করেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।

মূলত ওয়াসিমের নেশা ছিল বডি বিল্ডিংয়ে।

১৯৬৪ সালে বডি বিল্ডিংয়ের জন্য ‘মিস্টার ইস্ট পাকিস্তান’ খেতাব অর্জন করেছিলেন ওয়াসিম।

Sharing is caring!